আমার ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল বড় একজন ব্যবসায়ী হওয়া—নেহায়েত টাকা-পয়সা কামানোর জন্য না, মানুষের জন্য কিছু কাজের ব্যবস্থা করে দেব—এই আশায়। কিন্তু আমার ভালো লাগে পড়তে আর লিখতে। মানুষ বলে জ্ঞান অর্জন আর ব্যবসা নাকি একসাথে চলে না। হিন্দু পুরাণ তো বলেই রেখেছে লক্ষী আর স্বরস্বতী নাকি একসাথে থাকে না। এগুলো অবশ্য কথার কথা। হিন্দু পুরাণ মতে স্বরস্বতীর বাবা ব্রহ্মার আপন সন্তানের প্রতি এতই লোভ ছিল যে স্বরূপ ছেড়েও দেবী রক্ষা পায়নি। ব্রহ্মা বিভিন্ন পশুর রূপ ধরে অযাচার করে ছেড়েছে মেয়ের সাথে। এ ধরণের নোংরা কথা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে কী হজম করা সম্ভব? আসলে ইসলামের যে আকীদাহ: আল্লাহ কোনো কিছু না দেখে শুন্য থেকে সবকিছুকে সৃষ্টি করেছেন—এটা না বুঝলে মানুষ প্রাণ সৃষ্টির ব্যাপারে আজগুবি ব্যাখ্যা দেবে এটাই স্বাভাবিক। ব্যাখ্যার নোংরামি মনের কলুষতার সমানুপাতিক।

মির্জা ইয়াওয়ার বেইগ প্রথম মানুষ যিনি দুনিয়া এবং ইসলামের মিথষ্ক্রিয়াটা আমার কাছে খুব স্পষ্ট তুলে ধরেছিলেন। সাফল্যের রাস্তা সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন:

১. একটা লক্ষ্য ঠিক করা।
২. লক্ষ্যটাকে ভালোবাসা।
৩. সেই লক্ষ্যকে লক্ষ্য করে প্রতিদিন কাজ করে যাওয়া।

শায়খ ইয়াওয়ার বেইগকে জিজ্ঞেস করলাম—কারো যদি জীবনের লক্ষ্য থাকে খুব বড় একটা কোম্পানির CEO হবে অথচ তার ভালো লাগে লেখা-পড়ায় থাকতে তাহলে তার কী করা উচিত? তিনি জবাব দিলেন, তার উচিত একটা পাবলিকেশন কোম্পানিতে কাজ করা। আলহামদুলিল্লাহ, শায়খের ‘এচিভমেন্ট ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম’ নামের দুদিনের ওয়ার্কশপটিতে আমরা গিয়েছিলাম সিয়ান পাবলিকেশনের পক্ষ থেকে। 

‘ সিয়ান কী? ‘

অ্যামেরিকাতে যখনই কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করত সেখানে চাকরি করব কিনা, আমি বলতাম—নাহ! অন্য মানুষের হুকুম শুনতে আমার ভালো লাগে না। দেশে গিয়ে কী করবা তাহলে? একটা ফুড প্রসেসিং ব্যবসা দিয়ে শুরু করব। আমার দেশের বাড়ি দিনাজপুরে। মৌসুমে টমেটোর দাম নেমে আসে কেজিতে পঞ্চাশ পয়সায়। গরীব কৃষকের বীজের দামটাও ওঠে না। আড়তের আশ-পাশের রাস্তা লাল হয়ে যায় টমেটোতে। ট্রাকের চাপায় পিষ্ট লাল স্বপ্ন! যদি কৃষকদের কাছ থেকে আমি ৫ টাকায় কেজি কিনে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে প্যাক করতে পারি তবে দিব্বি অনেকদিন রাখা যাবে। কোন কেমিক্যাল মেশানো লাগবে না! যখন অসময়ে শোল মাছের সাথে ঝোল খাওয়ার জন্য ৮০ টাকা দিয়ে কেউ ফরমালিন দেওয়া টমেটো কিনছে তাকে ৫০ টাকা দিয়ে এক কেজির ক্যান বিক্রি করলে আমার কত্ত লাভ!

প্রায় সবাই বলল সাধু সাধু। খালি একজন বললেন, আপনি জীবনে ব্যবসা করেছেন?
–       না।
–       পরিবারে কারো ব্যবসা ভেতর থেকে দেখেছেন?
–       না।
–       এ ধরণের কোনো ইন্ড্রাস্ট্রিতে চাকরি করেছেন?
–       না।
–       তাহলে আপনার উচিত মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া, যেসব মুসলিম দেশে এমন ফুড প্রসেসিং ইন্ড্রাস্ট্রি আছে সেখানে কিছুদিন গিয়ে কাজ করা।
–       কিন্তু আমার তো অভিজ্ঞতা নেই এ ব্যাপারে।

আমার পড়াশোনা জেনেটিক্সে, মলিকুলার বায়োলজিতে, ফিজিওলজিতে। আমার ইচ্ছা দেখে কী বিদেশি একটা কোম্পানি আমাকে কাজ দেবে? চাচা হেসে বললেন, অভিজ্ঞতা নেই তাই চাকরি পাবেন কিনা—সন্দেহ করছেন। আর এদিকে মানুষের টাকা নিয়ে এত বড় ব্যবসা করার সাহস করছেন?

‘ যখন মানুষ বলেছে এদেশে ঘুষ না দিয়ে ব্যবসা হয় না, আমি একটুও ভয় পাইনি ‘

যে লোকটা ঘুষ না নিয়ে একটা ফাইলও ছাড়ে না তাকে আল্লাহ বাধ্য করবেন আমার কাজটা ঘুষ ছাড়াই করে দিতে। আল্লাহর উপর আমার এ ভরসাটা আছে। কিন্তু আমি যে জানি না ব্যবসা কীভাবে করতে হয়—তার কী হবে? অশিক্ষিত থাকলে তো আর আল্লাহর দোহাই দেওয়া যাবে না। নিজেকে উদ্যোগী হয়েই জানতে হবে, শিখতে হবে।

এরই মধ্যে প্রস্তাবটা আসলো। ইসলামিক অনলাইন ইউনিভার্সিটিকে কেন্দ্র করে চারটি অংগসংগঠন তৈরী হবে—বিদ্যাপীঠ, প্রকাশনা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সমাজ উন্নয়ন সংস্থা। সবকিছুকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে সাজানো এবং চালানো হবে। আমাকে বলা হলো প্রকাশনার দায়িত্ব নিতে। একদম গোড়া থেকে শুরু করতে হবে। বাংলাবাজার না, বংশাল না এমনকি কাঁটাবনও না। আমাদের দেশের বইগুলোর গড়পড়তা মানে যাচ্ছেতাই। সস্তা কাগজ, অস্পষ্ট ছাপা, ঘন হিজিবিজি লেখা। সবার উপরে আছে ভাষার বিটকেলেমি। বহু বই আমি শুরু করে শেষ করতে পারিনি। বাক্যের পর বাক্যের পড়ে যাচ্ছি—সেগুলো অর্থ বহন করে না—এভাবে কি বই পড়া যায়?

‘ আমাদের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে দিয়ে বই পড়ান। ‘

এ জন্য বইয়ের মান ভালো হতে হবে। বিষয়বস্তু-ভাষা-উপস্থাপনা-প্রচ্ছদ-কাগজ কোথাও মানের কোনো আপস করা হবে না। অনুবাদ করলে সম্পাদনা হবে দু’বার। কোনো কিছু বুঝতে যেন কষ্ট না হয়। টিনের বর্ম পড়া খটমটে অনুবাদ যেন না হয়। এর পরে তিনজন নির্বাচিত পাঠককে দেওয়া হবে—তাদের মতামত সম্পাদক আমলে নেবেন। মৌলিক লেখা হোক আর অনুবাদ, একজন বড়মাপের আলিমকে বইটা খুঁটিয়ে পড়তে দেওয়া হবে—শারঈ সম্পাদনা। বানানের জন্য প্রুফ দেখা হবে তিনবার, দরকারমতো রিভার্স প্রুফ অর্থাৎ উলটো করে পড়ে আসা হবে যেন পড়ার স্রোতে ভুল বানান সাঁতার কেটে বেরিয়ে যেতে না পারে। সব কাজের মান যেন ভালো হয় এজন্য অনুবাদক-সম্পাদক সবাইকে যথাযথ সম্মানী দেওয়া হবে। সময়মতই দেওয়া হবে।

এদেশে প্রকাশনা ব্যবসার দশা খুব করুণ। বইয়ের ব্যবসা ধারের উপরে চলে—টাকা আটকে থাকে অনেক। প্রফেশনালি না নেওয়ায় বিপনন-বিতরণের অবস্থা তথৈবচ। যে বই মানুষ খোঁজে সেটাই লাইব্রেরিতে পায় না। যারা বই বিক্রি করে তারা বই পড়ে না—মানুষকে বই কেনার সময় সেটা সম্পর্কে দু-চারটা কথাও বলতে পারে না। আর অনৈতিকতা তো আছেই। বই নকল-জোচ্চুরি সাধারণ ব্যাপার। বিনামূল্যে বিতরণের কথা বলে বিদেশি লেখকের অনুমতি নেওয়া হয়। একটা ইসলামি প্রকাশনী ইসলাম প্রচার করে অথচ লেখককে প্রাপ্য টাকা দেয় না—এটা কেমন ইসলাম? দুর্নীতি করলে উন্নতি করা যায় না। পাঠককে ঠকিয়ে, লেখককে ধোঁকা দিয়ে বাংলাদেশেও তাই প্রকাশনা শিল্প দাঁড়াতে পারেনি। কী সেকুলার, কী ধর্মীয়! পাঠক বলে বইয়ের এত দাম কেন—ফটোকপি পড়ব। প্রকাশক মান কমিয়ে দাম কমানোর চেষ্টা করে। ফটোকপি আর মূল বইয়ের তফাত থাকে সামান্যই।

ভালো মানের ছাপার জন্য যে খরচ হয় তার কথা বাদ দেই—আমাদের এই পুরো প্রক্রিয়া চালিয়ে নিতে মাসে খরচ হয় অকল্পনীয়। এমনিতে বাঙালিরা বই-রাগী জাত। তারা এক হাজার টাকা দিয়ে কনসার্ট দেখতে যায়। মাসে পাঁচশ টাকার মোবাইল বিল দিয়ে ফালতু প্যাচাল পাড়ে। দুশ টাকার খেলার টিকেট কিনতে পারে। একশ টাকা দিয়ে বার্গার কিনতে পারে। কিন্তু বই কেনার ধারে কাছে নেই। ভুলেও যদিবা কিনতে যায় দাম নিয়ে টিপ্পনি কাটবে। কাগজের দাম বাড়বে, কালির দাম বাড়বে, শ্রমিকের মজুরি বাড়বে, কর্মচারীর বেতন বাড়বে—কিন্তু বইয়ের দাম বাড়বে না! বাহ!

তারপরেও রাজি হলাম। মূল কারণ কাজটা আমি ভালোবাসি। অনুবাদের জন্য বই বাছাইয়ে উসিলায় কত্ত বই পড়া যাবে! একটা মেয়ে তার প্রিয় শিক্ষিকাকে পর্দা করার কথা মুখে বলতে পারেনি। সে পর্দার ওপরে একটা বই লিখবে, আমরা ছাপাব। সে বইটা শিক্ষিকাকে উপহার দিয়ে বলবে, ‘ম্যাডাম, আমার লেখা বই, পড়বেন প্লিজ।’ মানুষ পড়বে, ভাববে, নিজেকে বদলাবে—এমন চমৎকার একটা ব্যাপারের অংশ হতে পারাটাতো অনেক বড় আনন্দের ব্যাপার। আমাদের আগের প্রজন্মের অধিকাংশ মানুষ সংবাদপত্রের হলুদ আলোতে মিথ্যাটাকে সত্য ভেবে বসে আছেন। এই মানুষগুলো আমাদের বাবা-চাচা। তাদের কাছে সত্যগুলো পৌছানোর দায়িত্বটাতো আমাদের কাঁধেই বর্তায়! যেহেতু তাদের অধিকাংশই ব্লগ-ফেসবুকের বাইরে তাই কাগজে ছাপা বইই ভরসা।

কারণ আরো আছে। অ্যামেরিকা থাকতে ই-বুকের জগত দেখে এসেছি—বাংলায় কোন ই-বুক নেই।  প্রবাসীরা বাংলা পড়ার জন্য কেমন মুখিয়ে থাকে। অথচ ই-বুক দিয়ে ছাপার খরচটাকে অগ্রাহ্য করেও মানুষের কাছে বই পৌছে দেওয়া যায়। সাত-পাঁচ ভেবে দেখলাম প্রকাশনীর দায়িত্ব নিলে শুধু ব্যবসা শেখাই যাবে না, নতুন কিছু করার অভিজ্ঞতাও পাওয়া যাবে।

কথাটা সত্যিও—আমি ব্যবসা শিখতে শুরু করলাম। যে আমি কেজি প্রতি উৎপাদন খরচ ১০ টাকা, আর কেনাবাবদ ৫—একুনে ১৫ টাকা খরচ করে ৩৫ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছিলাম সেই আমি বুঝতে পারলাম খুচরা বিক্রেতাকে লাভ দিতে হবে ১০ টাকা আর পাইকারী বিক্রেতাকে ১০ টাকা। পণ্য পরিবহনে যদি দুটাকা লাগে আর বিপণনে ১৩—তাহলে টমেটো ব্যবসায় আমার কোনো লাভই থাকছে না।

কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ—এটাকেই আমার কাছে চ্যালেঞ্জ। আমি ভালো মানের বই বের করব—সবার যেন বইটা দেখলেই পড়তে ইচ্ছে করে, পড়া শুরু করলে শেষ করতে ইচ্ছে করে। তারপরেও সেই বইয়ের দাম এমন হবে যেন সত্যিকারের পাঠকদের ক্রয়সীমার মাঝে থাকে। যত বেশি মানুষ কিনতে পারবে, তত বেশি মানুষের কাছে পৌছবে। আর আমার উদ্দেশ্য তো ছিল এটাই—মানুষকে দিয়ে বই পড়ানো। যে পড়ে সে তো পড়বেই, যে পড়েনা তাকেও বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করে তোলা। এজন্য আমরা ই-বুকের বাজারে যাব। আমাজনের কিন্ডল, অ্যাপলের আই-ফোন-প্যাড-পড, ট্যাবলেট, এন্ড্রয়েড মোবাইল সবকিছু দিয়েই আমাদের বই পড়ার ব্যবস্থা করব। উৎপাদন খরচ ভাগ করে দেব যত বেশি সম্ভব। বইয়ের দাম কমাব যত বেশি সম্ভব।

কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ—এটাকেই আমার কাছে চ্যালেঞ্জ। আমি ভালো মানের বই বের করব—সবার যেন বইটা দেখলেই পড়তে ইচ্ছে করে, পড়া শুরু করলে শেষ করতে ইচ্ছে করে। তারপরেও সেই বইয়ের দাম এমন হবে যেন সত্যিকারের পাঠকদের ক্রয়সীমার মাঝে থাকে। যত বেশি মানুষ কিনতে পারবে, তত বেশি মানুষের কাছে পৌছবে। আর আমার উদ্দেশ্য তো ছিল এটাই—মানুষকে দিয়ে বই পড়ানো। যে পড়ে সে তো পড়বেই, যে পড়েনা তাকেও বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করে তোলা। এজন্য আমরা ই-বুকের বাজারে যাব। আমাজনের কিন্ডল, অ্যাপলের আই-ফোন-প্যাড-পড, ট্যাবলেট, এন্ড্রয়েড মোবাইল সবকিছু দিয়েই আমাদের বই পড়ার ব্যবস্থা করব। উৎপাদন খরচ ভাগ করে দেব যত বেশি সম্ভব। বইয়ের দাম কমাব যত বেশি সম্ভব।

কাজটা কঠিন। শুন্য থেকে যারা শুরু করে তারাই বুঝবে কতটা কঠিন। তারপরেও আলহামদুলিল্লাহ বাংলাদেশের এত নামী-দামী প্রকাশনীর মধ্যে সিয়ানই প্রথম কিন্ডলে পড়ার উপযোগী বই বিক্রি করছি আমাজনের মাধ্যমে। আমরা তথ্য-প্রযুক্তিকে ভালো কাজে লাগিয়ে এদেশ থেকে বসে আমেরিকায় বিক্রি করব ‘আকিদাতুত তাওহিদ’, ইংল্যান্ডে বিক্রি করব ‘তত্ত্ব ছেড়ে জীবনে’, অস্ট্রেলিয়ার বাঙালিরা পড়বে ‘স্রষ্টা ধর্ম জীবন’, কানাডায় পৌছে যাবে ‘বিয়ে: স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর’, মালয়েশিয়ায় ‘মিনতি তোমার কাছে। সৌদি আরব আর মালয়েশিয়ার বইয়ের দোকানে বাংলা বইও ঝুলবে। আমাদের কাজ আমরা করব—রিযকের মালিক আল্লাহ। রিযক মানে কিন্তু শুধু টাকা নয়, সিয়ান চলার জন্য যা কিছু লাগে সবই আল্লাহ দেবেন এটা আমরা বিশ্বাস করি। বিশ্বাস করি বলেই ফজরের সলাতের পরে যখন ঢাকা ঘুমায় আমরা সাতটার সময় অফিস ধরব বলে বেরিয়ে পড়ি বাসা থেকে।

‘ ফযরের পরের সময়টুকুতে বারাকাহ চেয়ে রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’আ করেছেন আল্লাহর কাছে! ‘

মূলত দু’আ চাওয়ার জন্য এ লেখাটা লেখা। অন্যরকম কিছু করতে চাওয়ার যাত্রাতে অনেক বাধা আসে। সে বাধা আল্লাহ যেন দূর করেন সেই দু’আ। যারা প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করতে চান তারা আমাদের বইগুলো নিতে পারেন—দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষের কাছে, পড়ুয়াদের কাছে, শিক্ষকদের কাছে বইগুলো পৌছে দিতে পারেন। উপহার হিসেবে দিতে পারেন, তাদের বই কিনতেও উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। এমনকি পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী সেজে বইও বিক্রি করতে পারেন। বিশ্বস্ত মানুষদের আমরা খুব স্বল্প পুঁজিতেই বই দেব।

যারা লেখালেখি করেন তারা আমাদের লেখা পাঠাতে পারেন—বাচ্চাদের জন্য, মেয়েদের জন্য। আপনি অনেক গান শুনতেন—কেন ছেড়ে দিলেন লিখে পাঠিয়ে দিন আমাদের কাছে। অবশ্যই সবার লেখা বইয়ে রূপ নেয় না। তবে যে কষ্ট করে শিখতে থাকে আর লিখতে থাকে, তার কাছে আল্লাহ প্রস্তাব পাঠিয়ে দেন বই বের করার। আমরা যারা টুকটাক লেখালেখি করি তারা মনে করি আমরা খুব ভালো লিখি। আসলে আমরা কতটা ভালো লিখি এটা আল্লাহ জানেন। তিনি যখন আমাদের উপযুক্ত মনে করেন তখন আমাদের লেখা দুনিয়াতে ছড়ানোর ব্যবস্থা করে দেন।

যারা ছবি আঁকতে ভালোবাসেন তারা আমাদের একটা বইয়ের অঙ্গসজ্জা করে দিতে পারেন। একটা বাচ্চা নুহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘটনাটা পড়ছে আর ছবি দেখছে। একটা ছবি দেখছে আর বাকি দৃশ্যপট ভেবে নিচ্ছে। তার কল্পনাশক্তিটি কোথায় যাবে ভাবা যায়? আল্লাহর অবাধ্যতা এবং বাধ্যতার মধ্যকার পার্থক্য তার মনের কত গভীরে ঢুকবে চিন্তা করা যায়? আপনি ইতিহাসের অনেক কিছুর সাক্ষী? আমাদের লিখে দেন, সত্য কথাটাই তো আমরা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই! সিয়ানের দরজা সবার জন্য খোলা। উপদেশ-অভিযোগ-অনুরোধ-আদেশ যা কিছু গঠনমূলক লিখে পাঠিয়ে দিন [email protected] বরাবর।

আমরা সিয়ান পাবলিকেশনকে বাংলাদেশের প্রথম বহুভাষিক প্রকাশনী হিসেবে দাঁড় করাব ইন শা আল্লাহ। বহু মানুষ আমাদের কাজ দেখে বিশ্বাস করেছে আমরা পারব। তারা আমাদের পাশে এসে দাড়িয়েছেন। অর্থ দিয়ে, মেধা দিয়ে, সমর্থন দিয়ে, দু’আ দিয়ে।

শুরু দিয়ে শেষ করি—আমি এখন আর আমি নই। আমি শিখেছি এবং শিখছি কীভাবে দল বেঁধে কাজ করতে হয়। কীভাবে সহযোদ্ধার ওপরে ভরসা করতে হয়। কীভাবে আমি থেকে আমরা হতে হয়। আমরা প্রকাশনা দিয়ে শুরু করছি কিন্তু ভরা মৌসুমে ফল-সব্জি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা ভুলিনি। আমরা কৃষিতে মাল্টিন্যাশনালদের আগ্রাসনের কথা ভুলব না। জাগতিক কিংবা আত্মিক—উন্নতি যে আসলে ঐকিক পদ্ধতি নয় বরং দলগত প্রচেষ্টা সেটা আমরা সব সময় মনে রাখব।

‘ আমরা মানে কী? আমরা মানে আমি এবং এই লেখাটা যারা পড়ে শেষ করলেন তারা সবাই। ‘

Shop
Sidebar
0 Wishlist
0 items Cart

Shopping cart

close

Sign in

close

Scroll To Top